২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ২৯ লাখ ৪ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিবহন হয়েছে, যা বন্দরের ইতিহাসে রেকর্ড। ২০১৭ সালের চেয়ে বিদায়ী বছরে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হয়েছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০২ টিইইউ।

বন্দরের তথ্যমতে, কনটেইনারের মাধ্যমে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যের বেশির ভাগই হচ্ছে শিল্পের কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত পণ্য। সাধারণত কনটেইনারে করে পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। রফতানি হয় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। আমদানি-রফতানির এ কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখে। এ কারণে কনটেইনার পরিবহনের এ প্রবৃদ্ধিকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের মূল অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম জোর গতিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন বন্দরে যুক্ত হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজও চলমান। কনটেইনার পরিবহনের হার ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার কারণে এখন ব্যবহারকারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার টন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ও বন্দর ব্যবহারকারী ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সমুদ্রপথে আমদানি ও রফতানি পণ্যের বড় অংশই চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পরিবহন হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কনটেইনার পরিবহন ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণও বাড়ছে। তবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দেখে বন্দর সম্প্রসারণে গৃহীত উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নে কোনো গড়িমসি করা যাবে না।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ