বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারছে না বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। ফলে পাল্লা দিয়ে ব্যয় বাড়ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজও চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ করতে পারছে না বাস্তবায়নকারী সংস্থা। ফলে ব্যয় বাড়ছে দ্বিগুণ বা দু’হাজার ২২২ কোটি টাকা। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এমতাবস্থায় সময় আরো দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এই প্রস্তাব পেশ করা হবে।

 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার কথা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করার জন্য অন্য সাতটি প্রকল্প থেকে ব্যয় কমিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব ব্যয় বাড়ানোর সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, সেখান থেকে ২ হাজার ২২২ কোটি ৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় বাড়ছে ১৯৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০১৫ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের জুনে। সাড়ে চার বছরে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ায় এখন সেটি শেষ হবে সাড়ে ছয় বছরে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যাক্ট অনুমোদিত হয়। দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রা শুরু করে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রামনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা এ বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, জমির মূল্যের সাথে ঘরবাড়ি-দালানের দাম, গাছপালার দাম, পুকুর খনন, মৎস্য ও মালিকের উপার্জনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ছে। যা আগের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) যোগ করা হয়নি। এ ছাড়া মূল ডিপিপি তৈরির সময় শুধু মৌজা দরের ভিত্তিতে জমির ক্ষতিপূরণ ধরা হয়, যা বর্তমানে কয়েক গুণ বেড়েছে। বাড়তি এই ব্যয়গুলো পুনর্গঠিত আরডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ১৬ একর জমির ওপর পন্টুন, ক্রেইন, নিরাপত্তা ভবন ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে। বড় আকারের জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয় কাজও শেষ হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। তখন এখানে সাড়ে ৭ হাজার কনটেইনারের স্থান সঙ্কুলান হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে দেড় হাজারটি কনটেইনারের স্থান সঙ্কুলান হয়। এতে কার্গো হ্যান্ডলিং খরচ বর্তমানের চেয়ে ৩ গুণ কমে আসবে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ