দীর্ঘদিন নিম্নমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে কিছুটা চাঙ্গা হয়েছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। কিন্তু তিনদিন ধরে আবারো নিম্নমুখিতায় ফিরেছে পেঁয়াজের বাজার। পূজার সময় ভারত থেকে আমদানি বন্ধের ফলে দাম বৃদ্ধি পেলেও এখন আমদানি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারো পেঁয়াজের দাম কমেছে বলে মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।

 

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ও দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭ থেকে ২২ টাকায়। এর মধ্যে কেজিপ্রতি ভালো মানের নাসিক জাতের পেঁয়াজ ১৯-২০ এবং মাঝারি মানের নাসিক পেঁয়াজ ১৭-১৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। গত সপ্তাহে নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল কেজিপ্রতি ২৩-২৪ টাকায়। বাজারদর অনুযায়ী, এক সপ্তাহে নাসিক জাতের পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৭ টাকা।

নতুন মৌসুমের ভারতীয় সাউথ জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০-২২ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। এর দাম গত সপ্তাহে ছিল ২৪-২৫ টাকা। সে হিসাবে সাউথ জাতের পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৩-৪ টাকা। একইভাবে এক সপ্তাহে কেজিতে ৮ টাকা কমেছে ভারতীয় পাটনা জাতের পেঁয়াজের দর। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে পাটনা জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৭-১৮ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে। সাতদিন আগে এর দাম ছিল ২৫-২৬ টাকা।

খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী বিপ্লব সাহা জানিয়েছেন, চলতি বছর অনেকটা নিম্নমুখী ছিল পেঁয়াজের বাজার। এর পর চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পণ্যটির দাম কিছুটা চাঙ্গা হয়। বছরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পণ্যটির দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়ে ২৫-২৬ টাকায় পৌঁছায়। তবে পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এক সপ্তাহের বেশি স্থির হয়নি। এর পরই আগের ধারায় ফিরে আসে পণ্যটির বাজার। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭-২২ টাকার মধ্যে।

দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে ওই আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নিম্নমুখী থাকলেও দুর্গাপূজার শেষ দিকে এসে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়। মূলত পূজার বন্ধের কারণে ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি বিঘ্ন হওয়ায় সরবরাহ সংকটে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ে। কিন্তু পূজার ছুটি শেষে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যটির সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসে। এতে তিন-চারদিন ধরে পণ্যটির দাম আবারো কমতে থাকে।

খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী মেসার্স তোহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ব্বাধিকারী সাব্বির আহমেদ বলেন, ভারতের বাজারে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। এতে পণ্যটির বাজার নিম্নমুখী রয়েছে। দেশীয় বাজারের তুলনায় ভারতে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কমেছে।

এদিকে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পণ্যটির আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মিঠু মল্লিক বলেন, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ ও বিক্রি বেশি। তাই অন্যান্য দেশের পেঁয়াজ আমদানি নেই বললেই চলে। অল্প পরিমাণ পাকিস্তানি পেঁয়াজ রয়েছে।

চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার বিষয়ে হামিদ উল্লাহ মার্কেটর কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বাংলাবিজনিউজকে বলেন, ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ও রফতানিমূল্য বেড়ে গত বছর ভারতের পরিবর্তে চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভারতীয় পেঁয়াজের তুলনায় এসব দেশের পেঁয়াজের মান খারাপ ও চাহিদা কম। আমদানি খরচও অনেক বেশি। তাই ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চীন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার