তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিলে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেলফোন অপারেটর সিটিসেলের আবেদনের ওপর ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হবে। সিটিসেল কর্তৃপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ আদেশ দেন আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল-সংশ্লিষ্ট এক নোটিসের কার্যকারিতা শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।

তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিদ্ধান্তটি স্থগিত চেয়ে গত সোমবার আবেদনটি করে সিটিসেল। এ আবেদনের শুনানিতে গতকাল আদালতে সিটিসেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শফিক আহমেদ, এএম আমিন উদ্দিন ও মাহবুব শফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

আদালতের আদেশের পর সিটিসেলের আইনজীবী মাহবুব শফিক বলেন, তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা (সিটিসেল) আবেদন করেছি। চেম্বার বিচারপতি শুনানি নিয়ে তা নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব বলেন, সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল করে বিটিআরসির দেয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেননি চেম্বার বিচারপতি। তাদের আবেদনটি ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হবে। সে পর্যন্ত বিটিআরসির সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। এ সময় পর্যন্ত সিটিসেল কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়ে পরের মাসে কোম্পানিটিকে নোটিস পাঠায় বিটিআরসি। ওই নোটিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গেলে বিটিআরসির পাওনা পরিশোধসাপেক্ষে সিটিসেলকে দুই মাসের সময় দেন আদালত। গত ২৯ আগস্ট ওই আদেশ দেন আদালত। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ দেয়ার সময় গত ২৯ আগস্ট রেজা-ই-রাকিব বলেছিলেন, ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা দুই দফায় পরিশোধসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই দিনের পর থেকে প্রতিদিন আরো ১৮ কোটি টাকা করে পাওনা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে মাহবুব শফিক বলেন, সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা টাকার একটি বড় অংশ ১৪৪ কোটি টাকা এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছি।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, লাইসেন্স নবায়ন ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফি, ভ্যাট ও বিলম্ব ফি বাবদ সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনার পরিমাণ প্রায় ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার