বহরমপুরের পর এবার ভারতের ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এক হাজার ৩৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিল্লাতে ৫০০ মেগা ওয়াট ব্যাক টু ব্যাক ষ্টেশন নির্মান করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া এক হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে মধুখালী-মাগুরায় নির্মিত হচ্ছে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ত্রিপুরা থেকে ৫ শ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি প্রকল্পটিসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান। মন্ত্রী জানান, ১৩ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৫১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা দেয়া হবে জিওবি খাত থেকে। আর প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ৫৯২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

একনেক জানায়, ‘সূর্যমণিনগর (ত্রিপুরা,ভারত) হতে কুমিল্লা উত্তরে (বাংলাদেশ) বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কুমিল্লা উত্তরে ৫০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের পূর্বাঞ্চলের ক্রমর্বধমান বিদ্যুতের চাহদিা পূরণে ত্রিপুরা এবং আসাম হতে ৫০০ মে.ও. বিদ্যুৎ আমদানরি লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ।

বিদ্যুৎ খাতে ভারত-বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার যৌথ ওয়াকিং গ্রুপের ১২তম বৈঠক গত ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সূর্যমণিনগর হতে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কুমিল্লার উত্তর (বাংলাদেশ) দিয়ে সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয়। ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ১২তম যৌথ ওযার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যৌথ কারিগরি টিম কর্তৃক সম্ভাব্যতা জরীপ করে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা যৌথ ওয়াকিং গ্রুপের বৈঠকে উপস্থাপন করবে। সে প্রেক্ষিতে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ১৩তম বৈঠকে জেটিটি একটি প্রকল্প প্রতিবেদন দাখিল করে। বর্তমানে ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের (বর্তমান প্রাথমিকভাবে ১৩২ কেভিতে চার্জ করা) মাধ্যমে ত্রিপুরার সূর্যমণিনগর হতে কুমিল্লা (দক্ষিণ) উপকেন্দ্রের মাধ্যমে রিডিয়াল মোডে বাংলাদেশে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এই লাইনের মাধ্যমেই সূর্যমণিনগর হতে আলোচ্য প্রকল্পের নির্মিতব্য (উত্তর) ব্যাক টু ব্যাক ষ্টেশন দিয়ে ৫০০ মে. ও. বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

জানা গেছে, প্রায় অর্ধ শত বছর পর ফরিদপুরের মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ২৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ। মাগুরা জেলাকে বাস্তবায়নাধীন পদ্মাসেতুর মাধ্যমে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ওই অঞ্চলে বাণিজ্য প্রসার ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ উন্নয়ন হবে । ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে এ রেলপথ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪৬ বছর আগে ফরিদপুর মধুখালী থেকে কামারখালী পর্যন্ত রেলপথ ছিল। কিন্তু এটা এখন আর ব্যবহার হয় না। তবে কামারখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত কোনো রেলপথ নেই। মধুখালী থেকে কামারখালী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি সংস্কার করে ব্রডগেজ এবং কামারখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মিত হবে। এ লক্ষ্যে ‘মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ কুমিল্লা হয়ে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সারাদেশে বিতরন করা হবে। তিনি জানান, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, দু বা তিন ফসলের জমিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে না। এক ফসলী জমি হলে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, দেশের সব নদীবন্দরগুলোকে আবার চালু করা হবে। এতে করে সড়কের উপর চাপ করমবে।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হলো ৩৭৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প, ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে “ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন” প্রকল্প, ৪০৭ কোটি ২০ রাখ টাকা ব্যয়ে সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচ” প্রকল্প, ৭৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (রাজশাহী জোন)” প্রকল্প, ৭৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (খুলনা জোন)” প্রকল্প, ৬৫৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (রংপুর জোন)” প্রকল্প, ৬৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (চট্টগ্রাম জোন)” প্রকল্প, ৫৩৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন)” প্রকল্প, ৫১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরবাড়ীতে আনুষঙ্গকি সুবধিাসহ নদী বন্দর নির্মান প্রকল্প, ৩৬৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিক সার্ভিস নির্মান” প্রকল্প এবং এক হাজার ৮৮৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যয়ে প্রকল্প আইডেন্টিফিকেশন সিষ্টেম ফর এনহেন্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) সংশোধন প্রকল্প।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ