আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত রোববারের ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের সর্ববৃহত্ মজুদকেন্দ্র ওকলাহোমার কাশিং থেকে পণ্যটির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, এমন প্রত্যাশাও জ্বালানি তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খবর মার্কেট ওয়াচ।

 

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলে বেড়েছে ৮২ সেন্ট। আগের দিনের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে সোমবার পণ্যটি ৪৪ ডলার ৮৯ সেন্টে লেনদেন হয়।

অন্যদিকে লন্ডনের আইসিই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়েছে ব্যারেলে ৫৭ সেন্ট। এদিন পণ্যটির দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৬ ডলার ১৫ সেন্টে বিক্রি হয়। মূলত তিনটি কারণে জ্বালানি তেলের বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী বলে জানিয়েছেন প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন।

অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা আরোপের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুদাগার ওকলাহোমার কাশিংয়ে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ কারণে এখন থেকে ডব্লিউটিআইয়ের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থায় সরবরাহ কমে আসবে এমন আশঙ্কায় বাড়তির দিকে রয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার। ডব্লিউটিআরজি ইকোনমিকসের জ্বালানি-বিষয়ক অর্থনীতিবিদ জেমন উইলিয়ামস বলেন, ভূমিকম্পে কাশিংয়ের তেল মজুদ রাখার ট্যাংক অথবা পাইপলাইনে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। যদিও পর্যাপ্ত নিরাপদ কিনা তা যাচাইয়ের জন্য কিছু পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি ক্লিনটন জ্বালানি তেলের বাজারদর পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা। জ্বালানি খাতের উন্নয়নে হিলারি ক্লিনটন সহায়তা করবে বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে দেয়া মিলিয়ন ডলার ভর্তুকি মওকুফ করে দিতে পারেন তিনি। দুই বছরের বেশি সময় জ্বালানি তেলের বাজার চাপের মুখে রয়েছে। পণ্যটির বাজারদর পুনরুদ্ধারে যাবতীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন তিনি। ক্লিনটন জয়ী হলে তেলের মতো ঝুঁকিতে থাকা পণ্যের বাজার ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন তেল ও গ্যাস-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নোমুরার প্রধান গর্ডন কেওয়ান। অন্য বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াতে কাজ করবেন। তবে সোসিয়েতে জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট কে হন, তার ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম খুব বেশি নির্ভর করছে না বলে জানিয়েছে। কেননা বাজারে এখনো প্রচুর পরিমাণ উদ্বৃত্ত জ্বালানি তেল আছে।

এদিকে অনেক বিনিয়োগকারী চলতি মাসের শেষে ওপেক জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা আরোপের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তার অপেক্ষায় রয়েছেন। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের তথ্যমতে, চলতি বছরের অক্টোবরে ওপেকের দৈনিক জ্বালানি তেলের উত্তোলন বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল, যা রেকর্ড। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ), এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) এবং ওপেক চলতি সপ্তাহে পৃথকভাবে জ্বালানি তেল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি হিটিং অয়েল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। তবে কমেছে গ্যাসোলিনের দাম। নিমেক্সে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য গ্যালনপ্রতি গ্যাসোলিনের দাম ১ সেন্ট কমে বিক্রি হয় ১ ডলার ৩৭ সেন্টে। অন্যদিকে একই সময়ে সরবরাহ চুক্তিতে হিটিং অয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ ডলার ৪৪ সেন্ট লেনদেন হয়। নিমেক্সে সোমবার প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ ডলার ৮২ সেন্টে বিক্রি হয়।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার