দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে দ্বিমাত্রিক ভূতাত্তিক জরিপ (টুডি সিসমিক সার্ভে) শুরু করছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি) বিদেশ লিমিটেড এবং অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড। আজ থেকে এ জরিপ শুরু হচ্ছে। চলবে তিন মাস। পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে ভারতের কোনো কোম্পানির এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এ জরিপকাজ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, আজ চট্টগ্রামের বোট ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ জরিপকাজের উদ্বোধন করা হবে। জরিপকাজ চলবে আগামী তিন মাস। উপকূল এলাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ মিটার লাইন পর্যন্ত সমুদ্র এলাকায় জরিপ  পরিচালনা করা হবে। ভারতীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি বিদেশের হয়ে এ জরিপকাজ পরিচালনা করবে চীনের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল করপোরেশন (সিনোপ্যাক) কোম্পানি। এতে বাংলাদেশ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ও ওএনজিসি সিনোপ্যাকের কাজ পর্যবেক্ষণ করবে।

অগভীর সমুদ্রের ব্লক এসএস-৪ এবং এসএস-৯-এ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলার মধ্যে উত্পাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সই হয়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জরিপকাজ শুরু করার কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়।

কক্সবাজারের নিচে প্রায় দুই হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে একেকটি ব্লক ভাগ করা হয়েছে। অগভীর সমুদ্রের ৪ নম্বর ব্লকের মোট আয়তন ৭ হাজার ২৬৯ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে দুই হাজার লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ চালাবে প্রতিষ্ঠানটি। ওই ব্লকের জরিপের জন্য ১০টি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৯ নম্বর ব্লকের আয়তন হচ্ছে ৭ হাজার ২৬ বর্গকিলোমিটার। এ ব্লকে ২ হাজার ৮৫০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হবে। এজন্য সাতটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সাগরে তেল-গ্যাস পাওয়া গেলে মোট গ্যাসের ৫৫ শতাংশ (কস্ট রিকভারি) পাবে ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়া। বাকি অংশের মধ্যে তেল ও কনডেনসেটের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশ পাবে পেট্রোবাংলা।

এছাড়া অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়া উত্তোলিত গ্যাস প্রথমে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেবে। পেট্রোবাংলা না কিনলে বাংলাদেশের মধ্যেই তৃতীয় পক্ষের কাছে তা বিক্রি করতে হবে। উত্তোলিত তেল-গ্যাসের দাম নির্ধারিত হয়েছে হাইসালফার ফুয়েল অয়েল সিঙ্গাপুর ভিত্তিতে প্রতি টন ১০০ থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে।

৪ নম্বর ব্লকে আট বছরের চুক্তি মেয়াদের জন্য ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়াকে ব্যাংক গ্যারান্টি রাখতে হবে ৫৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার এবং ৯ নম্বর ব্লকের জন্য এ অর্থের পরিমাণ ৮৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া ৪ ও ৯ নম্বর ব্লকে অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে (ক্যারিড ইন্টারেস্ট) থাকছে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। তেল-গ্যাস উত্তোলন হলে খরচ দিয়ে ১০ শতাংশের অংশীদার হবে বাপেক্স। আর উত্তোলন না হলে বাপেক্সকে কোনো খরচ দিতে হবে না।

এ বিষয়ে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা এ দুই ব্লকে ওদের সঙ্গে ক্যারিড ইন্টারেস্ট হিসেবে আছি। চলতি বছরের শুরুতে তাদের কাজ আরম্ভ কথা ছিল। কিন্তু তারা পিছিয়ে যায়। এখন তাদের কাজ করতে হবে। তবে আজ থেকে কাজ শুরু হবে কিনা তা নিশ্চিত নই।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার