সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা মাসুল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কসপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৩০ অক্টোবর রোববার সকাল ৬টা থেকে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

 

অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার টালবাহানা করছে। এখন তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা তাদের কর্মসূচি পালনে আর পিছ পা হবেন না।

আজ বুধবার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি মাসুদ খান। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর, পেট্রোলপাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক এবং বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হকসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ অক্টোবর একই দাবিতে পেট্রোলপাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ অক্টোবর রোববার থেকে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি মাসুদ খান বলেন, গত তিন বছর ধরে তারা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। প্রতিবারই শেষ মূহূর্তে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকার গত তিন বছর ধরে শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কোনো দাবি পূরণ করা হয়নি। এমনিতেই তাদের ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ, এর ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে নতুন করে ভূমির ইজারা মাসুল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর ফলে শুধু সিএনজি স্টেশনের মালিকরাই নন, সারা দেশের পেট্রোলপাম্প মালিকদেরও ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি এক হিসাব দিয়ে বলেন, সিলেট সড়ক বিভাগধীন একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন তার ২৪ শতাংশ ভূমির বার্ষিক ইজারা মাসুল বাবদ আগে ৫২ হাজার ৫৬০ টাকা পরিশোধ করতো, এখন পুন:নির্ধারিত হার অনুযায়ী সেই স্টেশনটির বার্ষিক ইজারা মাসুল বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১১ লাখ ২৮ হাজার ৬৮২ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ২২ গুন বেশি। আর মেট্রোপলিটন এলাকায় এ হার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৮৮ গুণ বেশি। শুধু তাই নয়, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে নতুন প্রবর্তিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এককালীন ফি এবং ১০ বছরের বার্ষিক ইজারা ফি বাবদ একত্রে মোটা অংকের টাকা সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। আগে যেখানে শুধু ইজারা মাসুল পরিশোধ করা হতো, এককালীন ফি বলতে কিছু ছিল না।

সংগঠনের সভাপতি বলেন, এসব কারণে তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ পরিস্থিতি ইজারা মাসুল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে আগামী ৩০ অক্টোবর রোববার সকাল ৬টা থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সকল সিএনজি ফিলিং স্টেশন লাগাতার ধর্মঘট পালন করবে। আর এজন্য উদ্ভুত অনাকাঙ্খিত যেকোনো পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, অতিতে সরকারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও এখন তারা অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, তাদের দাবি অভিন্ন। অযৌক্তিক ভূমির ইজারা মাসুল চাপিয়ে দেয়ায় তাদের জীবণ মরণের সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকার তাদের দাবি পূরণ করলে তারা ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দিয়ে জনগণের দুরাবস্থার মধ্যে ফেলতে চান না।

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার