বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তুরস্ক, কোস্টারিকা ও থাইল্যান্ডের চেয়েও বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে কম ঋণ নেয় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। এমন তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে।

 

রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকলেও নীতি কৌশলের জটিলতায় অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিদেশ থেকে ঋণ আনতে প্রক্রিয়া সহজ করার দাবিও জানান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল। পিআরআই ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, প্রাণ ফুড লিমিটেডের ডিরেক্টর উজমা চৌধুরী, এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলাসহ অন্যরা।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুরমূল প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ভারত প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে বিদেশ থেকে ঋণ নেয় তাদের জাতীয় আয়ের ১০ শতাংশ।

থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াও ১০ শতাংশ ঋণ নেয় বিদেশ থেকে বেসরকারিভাবে। তুরস্ক ও কোস্টারিকায় এই হার জাতীয় আয়ের ২০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে মাত্র জাতীয় আয়ের ১ শতাংশ বেসরকারিভাবে বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়া হয়।

উজমা চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে বিদেশি ঋণ নেওয়া যায়। বিদ্যুৎসহ হাতে গোনা তিন-চারটি খাতে। এটিকে আরো অবারিত করা যেতে পারে। রি-টেইল খাতেও বিদেশি ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি করেন তিনি।

বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। তাতে উল্লেখ করা হয়, বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করতে অনেক জটিল প্রক্রিয়ায় পড়তে হয়। সংস্থাগুলোর অসহযোগিতা রয়েছে।

প্রকল্প অনুমোদন দিতে দেরি করে। এবং অর্থ ছাড় করতেও দেরি করে। হাতে গোনা কয়েকটি খাতে ঋণ নেওয়া যায়। এসব সমস্যার সমাধানের তাগিদ দেন বক্তারা।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ