কেমন হবে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের চলতি মেয়াদের সবশেষ বাজেট। এ নিয়ে বিতর্ক চলছে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে। তবে বাজেট যাই হোক! মান ধরে রেখে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্ঠদের। তাই বরাদ্দ, বন্টন আর রাজস্ব আহরণে সরকারকে আরো চৌকস হতে হবে।

 

চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির ভালো মন্দের মিশ্রণকে সামনে রেখে আবারও বড় বাজেট দেয়ার পথে সরকার। এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। যা মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির ২০ শতাংশের কিছু বেশি।

বাজেটে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার মূল এডিপিসহ মোট উন্নয়ন খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৮৭ হাজার ১৩১ কোটি যাবে বেতন ভাতা সুদ পরিশোধ সহ অন্যান্য অনুন্নয়ন খাতে।

এব্যাপারে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলছেন, স্বাভাবিকভাবে এই বাজেটে নির্বাচনী একটি প্রভাব থাকবে। স্থানীয় সরকারে সরকারের বরাদ্দ এবার সবচেয়ে বেশি।

এর মাধ্যমে লোকাল প্রসাশন ও লোকাল গর্ভমেন্টের যারা আছেন, তাদের মাধ্যমে সড়কে, স্কুলে, মসজিদ-মাদ্রাসায় এবার বড় আকারের একটা থোক বরাদ্দ থাকবে।

চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বড় এ বাজেটে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঁধে দায়িত্ব পড়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের। যা বছর ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, এ বাজেট দুই সরকারের সেতুবন্ধন। এটা কোনো এক সরকারের বাজেট না। আগামী সরকারের সঙ্গে এ সরকারের একটি বন্ধন রেখে বাজেট হওয়া দরকার।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেন একটি শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়; যা মানুষের আয়ে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে মানুষের আয়ে বৈষম্য দূর হয়, সরকারকে তেমন বাজেট দিতে হবে।

তবে পরিকল্পনা সচিব শামসুল আলমের মতে, এবারের বাজেটটিও হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিক বাজেট। রাজনৈতিক সরকার সবসময় জনতুষ্টির কথা মাথায় রেখেই বাজেট বাস্তবায়ন করে। এ বাজেটটি তেমন ধারাবাহিক বাজেট হবে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ