বাংলাদেশে চলতি বছর ৫ কোটি ২৩ লাখ টন চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে চলতি বছর চাল উৎপাদন সামান্য কমতে পারে। খবর রিলিফওয়েব।

 

দেশে বোরো, আউশ ও আমন— এ তিন মৌসুমে চাল উৎপাদন হয়। আমন মৌসুমে চাল উৎপাদন শুরু হবে নভেম্বর থেকে। চলবে জানুয়ারি পর্যন্ত। আমন মৌসুমে দেশের বার্ষিক চাল উৎপাদনের ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে বাংলাদেশে ২ কোটি ৬০ হাজার টন চাল উৎপাদিত হবে, যা গত বছরের একই মৌসুমের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি, অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তার কারণে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি বছর বোরো ও আউশের আবাদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সরকারিভাবে চলতি বছর ২ কোটি ৮৪ লাখ টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল, যা ২০১৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। এফএও জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে বোরো মৌসুমে উৎপাদিত চালের দাম কম থাকায় কৃষক কম পরিমাণে শস্যটি আবাদ করেছেন। একই কারণে কমেছে চলতি বছরের আউশ মৌসুমের চাল উৎপাদনও। এফএও’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি আউশ মৌসুমে বাংলাদেশে ৩৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে— যা গত বছরের একই মৌসুমের চেয়ে ২ শতাংশ কম।

এফএও’র সামগ্রিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মোট ৫ কোটি ২৩ লাখ টন চাল উৎপাদিত হতে পারে। গত বছর বাংলাদেশে চাল উৎপাদন এর চেয়ে সামান্য বেশি ছিল।

চালের পাশাপাশি দেশে ভুট্টা ও গম উৎপাদনের পূর্বাভাসও দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাটি। এফএও’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মোট ২৬ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদিত হতে পারে। একই বছরে শীতকালীন গম উৎপাদন হবে (এপ্রিল থেকে উৎপাদন শুরু হবে) ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন। ইনডেস্ক মুন্ডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

খাদ্যশস্য আমদানি কমছে : বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও— যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।

খাদ্যশস্য আমদানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চাল। এফএও’র হিসাব অনুযাযী, চলতি বছর বাংলাদেশে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টন চাল আমদানির লক্ষ্য রয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর প্রায় দ্বিগুণ চাল আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। দেশে পণ্যটির উৎপাদন ও মজুদ বাড়ার কারণে আমদানি কমে যাচ্ছে।

এফএও জানিয়েছে, আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার কারণে বাংলাদেশে চাল আমদানি কমেছে। চলতি বছরের জুনের হিসাব অনুযায়ী, চাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে বাংলাদেশে।

এফএও’র হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে চালের পাশাপাশি ভুট্টা ও গম আমদানিও কমছে এ বছর। চলতি বছর ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ভুট্টা ও ৪৪ লাখ টন গম আমদানি করবে বাংলাদেশ।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার