জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৩ হাজার ৪৮৮ কোটি ২০ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় সভার শুরুতে একনেকের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

একনেকের পক্ষ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ আইসিটি খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এসব মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিশ্বে বাংলাদেশকে অনেক উঁচুতে পৌঁছে দিয়েছে।

একনেক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ ও ওই নদীর মূল্যবান বালু-সম্পদ কাজে লাগাতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনার বিজয়পুরসহ আশপাশের এলাকার মুল্যবান চীনা মাটি উত্তোলনে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর কী রকম প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে নার্সিং কলেজ অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য দেশের প্রতিটি সেনানিবাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়াসের শাখা স্হাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী একনেক সভায় জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৩ ভাগ। আগস্টে এর হার ছিল ৫ দশমিক ৩৭ ভাগ।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের গত তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৭ শতাংশ।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন আপগ্রেডেশন প্রজেক্ট (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) প্রকল্প। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৩৫৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ১ হাজার ৪৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি এমজি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শ্যামগঞ্জ-জারিয়া-বিরিশিরি-দুর্গাপুর মহাসড়ককে জাতীয় মহাসড়কের মানে উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকার আজিমপুরে জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প, সুরেশ্বর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন প্রকল্প, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সোনাহাট ব্রিজের কাছে ভুরুঙ্গামারী-মাদারগঞ্জ সড়ক পথকে দুধকুমার নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ থেকে বজরা সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত প্রয়াসের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার