লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলে পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ‘উচ্চতর আদালত/হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন শুল্ক ও ভ্যাটবিষয়ক মামলার ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুবে আলম বলেন, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলে পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে। সাধারণত বিল অব এন্ট্রিতে যে পণ্যের কথা উল্লেখ থাকে বাস্তবে তার চেয়ে কম মূল্যের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এর ফলে পণ্যের মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

এনবিআরে নিয়োগপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনবিআরকে লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ববান ও দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। অনেক লিয়াজোঁ অফিসার মামলায় পরাজিত হওয়ার জন্য মামলাবাজদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন। তাদের চেষ্টা থাকে সরকারপক্ষ যেন মামলায় ফেল করে। ফলে মামলায় সাফল্য কম আসে। তাই লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া দরকার।

মাহবুবে আলম বলেন, সরকারি চাকরি সহজে না যাওয়ার কারণে অনেক চাকরিজীবী কাজে আন্তরিক হন না। এ জন্য খারাপ কাজের জন্য যেমন চাকরি যাওয়ার মতো শাস্তি থাকা দরকার, তেমনি মামলায় সাফল্য এলে সে জন্য ইনসেনটিভ থাকা দরকার।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধিতে রাজস্ব সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আশা করছি এ সকল উদ্যোগের ফলে রাজস্ব সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, মামলাজট কমবে, সরকারের পক্ষে রায় আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্ভাবনীমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

সভা থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার আয়কর, শুল্ক ও মূসকবিষয়ক মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় সরকারের প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় এনবিআরের পক্ষ থেকে ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজস্ব সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের ডেডিকেটেড বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, এক কোটি টাকার ওপরে মামলাগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা, কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা ইত্যাদি।

সভায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস ও হাইকোর্টের ফোকাল পয়েন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন কর অঞ্চলের কর কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার