অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, প্রতিটি মানুষের কর দেওয়া উচিত। ৫ থেকে ১০ টাকা যা-ই হোক না কেন, তা দিয়ে হলেও দেশের উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। এটা করতে পারলে দেশে কর সংস্কৃতি তৈরি হবে, কর বিষয়ে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে।

 

তিনি বলেন, ‘এ জন্যই আমি বাধ্যতামূলক করের কথা বলছিলাম। এ প্রস্তাব এখনো রয়েছে। বাস্তবায়ন হবে কি না আমি জানি না। তবে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’   

বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে ‘পে-রোল ট্যাক্স ও করনেট সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। 

পে-রোল ট্যাক্সের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পে-রোল ট্যাক্সের আওতায় রয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধের সময় পে-রোল ট্যাক্স কেটে রাখা উচিত। এটা করলে কর আদায়ে সুবিধা হয়। দেশের সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটা কার্যকর করতে পারলে পে-রোল ট্যাক্সের আওতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।’   

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি খাতের সকল প্রতিষ্ঠান করের আওতায় আসছে না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ৩০ শতাংশ বা তার বেশি পে-রোল ট্যাক্স আদায় হলেও আমাদের দেশে এই কর আদায় হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে স্বীকৃত কোটিপতির সংখ্যা ৫৩ হাজার। এর বাইরেও অনেক কোটিপতি রয়েছেন; যারা যথাযথ কর প্রদান করেন না। এই প্রবণতা পৃথিবীর সব দেশে রয়েছে। এর কোনো যুক্তি নেই। কর প্রদান গর্বের বিষয়। প্রত্যেকেরই কর দেওয়া উচিত। এটা আমার নিজের অনুভূতি থেকে বলছি। আমি প্রথম কর দিয়েছি ছাত্রজীবনে; সেই ১৯৫৬ সালে। তখন আমি কর প্রদান করে নিজেকে গর্বিত মনে করেছি।’    

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ ।

এ ছাড়া পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মুনসুর ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার