অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে নতুন রেকর্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে চীন। চলতি বছর দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ৯২ কোটি ৩০ লাখ টন হতে পারে। এমনটি হলে তা হবে চীনে এ-যাবত্কালের সর্বোচ্চ ইস্পাত উৎপাদন। তবে আগামী বছর দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন আবার কমে ৯০ কোটি টনে নেমে আসতে পারে। গত সোমবার দেশটির সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ তথ্য জানায়। খবর রয়টার্স।

চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশটিতে ৮৩ কোটি ১৭ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। দেশটির ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ ইস্পাত উৎপাদনের রেকর্ড। পরিবেশ দূষণ রোধে গত বছর দেশটিতে নিম্নমানের ইস্পাত উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ঘাটতি পূরণে প্রধান উৎপাদকরা পণ্যটির উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়ায় টানা দুই বছর ধরে দেশটিতে সামগ্রিক উৎপাদনও বাড়ার পথে রয়েছে।

চায়না মেটালার্জিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট লি জিনচুয়াং জানান, নিম্নমানের ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হতো না। এ কারণে প্রধান উৎপাদকরা উৎপাদন বাড়ানোর কারণে দাপ্তরিক হিসাবেও সামগ্রিক উৎপাদন বেড়েছে। তিনি বলেন, ইস্পাত উৎপাদনে অর্থনৈতিক অবস্থা এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে। চীনে চলমান দূষণরোধী ক্যাম্পেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য বিরোধও পণ্যটির বাজারকে প্রভাবিত করছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অটোমোবাইল, জ্বালানি ও সম্পদ খাতে চাহিদা কমে আসার কারণে ২০১৯ সালে চীনে ইস্পাতের ব্যবহার কমে ৮০ কোটি টনে নেমে আসতে পারে। চলতি বছর দেশটিতে ৮২ কোটি টন পর্যন্ত ইস্পাত ব্যবহার হতে পারে। এ সময়ে দেশটিতে ১২০ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক লোহা ব্যবহার হতে পারে, যা গত বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আকরিক লোহা ইস্পাত তৈরির প্রধান উপাদান। ইস্পাতের সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর চীনে পণ্যটির চাহিদা কমে ১১৪ কোটি ৭০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, আগামী বছর চীন ৫ কোটি ৫০ লাখ টন ইস্পাত পণ্য রফতানি করতে পারে। চলতি বছর এসব পণ্য রফতানি হতে পারে ৫ কোটি ৬২ লাখ টন। এ হিসাবে আগামী বছর ইস্পাত পণ্যের রফতানি কমবে।

চীনা ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চায়না বাওয়ু স্টিল গ্রুপ (সিবিএসজি) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) চীনে ৬৯ কোটি ৯৪ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সময় দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ