আরব বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মডেল চলমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দে। মঙ্গলবার আরব অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় এ আহ্বান জানান তিনি। খবর সিনহুয়া।

 

মঙ্গলবার মরক্কোর মারাকেশ শহরে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় লাগার্দে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পুরনো মডেল, যেখানে রাষ্ট্রই কর্মসংস্থানের প্রথম অবলম্বন ছিল, সেটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। বেসরকারি খাতগুলোর এক্ষেত্রে প্রবেশ ও বিস্তৃতি প্রয়োজন।

তিনি আরব বিশ্বের সরকারগুলোকে দুর্নীতি মোকাবেলা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নতুন প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করার মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরিতে সহায়তার জন্য বলেন। আইএমএফ প্রধান আরো বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করার আরেকটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো যুব, নারী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও শরণার্থীদের উন্নত শিক্ষা ও কার্যকর শ্রমবাজার নীতিমালার মাধ্যমে অন্তর্ভূক্ত করা। তার মতে, রাজস্ব নীতিকে অবশ্যই এ অঞ্চলের অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে প্রণয়ন করতে হবে। উদীয়মান ইউরোপের ১৯ শতাংশের তুলনায় আরব বিশ্বের সামাজিক ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা জাল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবার ব্যয় জিডিপির ১১ শতাংশেরও কম বলে এ সময় তিনি উল্লেখ করেন।

এ অঞ্চলের বহু দেশে অবকাঠামো প্রয়োজনীয়তাও যথেষ্ট বৃহদাকারের। লাগার্দে বলেন, এ অঞ্চলের ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি তরুণ আগামী পাঁচ বছরে শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে। অথচ এখানকার তরুণ বেকারত্বের হার পুরো বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ, গড়ে ২৫ শতাংশ।

লাগার্দে জোর দিয়ে বলেন, আজকের তরুণ আরব বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় শক্তি। আমাদের এ তরুণদের আকাঙ্ক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

আইএমএফের সঙ্গে আরব মনিটারি ফান্ড, আরব ফান্ড ফর সোস্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এবং মরক্কো সরকার মারাকাশের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। উচ্চ পর্যায়ের এ সম্মেলনে আরব বিশ্বের উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে। দুদিনব্যাপী ‘অপরচুনিটি ফর অল: প্রমোটিং গ্রোথ, জবস অ্যান্ড ইনক্লুসিভনেস ইন দ্য আরব ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এ সম্মেলনে আরব বিশ্ব ও এর বাইরের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, করপোরেট নির্বাহী, শিক্ষাবিদ, তরুণ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ