যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স কোড পরিবর্তনের ঐতিহাসিক বিলটি সিনেটে শনিবার পাস হয়েছে। এর সুবাদে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই বড় ধরনের কোনো আইনি পাসে জয়ী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলেন। মতৈক্যে পৌঁছতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে জাঁকালো কর সংস্কারবিষয়ক বিলটির ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, রয়টার্স ও গার্ডিয়ান।  

 

শনিবার সকালে ৫১-৪৯ ভোটে সিনেটে যুক্তরাষ্ট্রের কর সংস্কারবিষয়ক বিলটি পাস হয়। ফলে ব্যবসায়ী ও ধনীদের কর কর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য মিশ্র করব্যবস্থা প্রচলনের লক্ষ্যপূরণে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বলা হচ্ছে, আশির দশকের পর মার্কিন কর আইনে এটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণে আগামী ১০ বছরে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হবে। তাদের প্রত্যাশা, করব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে বর্ধনশীল মার্কিন অর্থনীতি আরো প্রণোদিত হবে। দলের নেতাদের মধ্যেই মতৈক্যের অভাবে বৃহস্পতিবার বিলটি পাস নিয়ে রীতিমতো অনিশ্চয়তায় পড়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রিপাবলিকানদের ভোটের মাধ্যমে সিনেটে বিলটি পাস হলেও এর বিপক্ষে থাকা ডেমোক্র্যাটদের জোটে যোগ দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর বব করকার।

সিনেটে কর সংস্কার বিলটি পাস হওয়ার পর সিনেটের প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ভীষণরকম সুখী হতে যাচ্ছে।’ সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস যখন কর সংস্কার আইনের নিজ নিজ সংস্করণের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার কাজ করছিলেন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, বিলটি পাস হলে করপোরেট করহার কমে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে দাঁড়াবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ২২ শতাংশও হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত যেটিই হোক না কেন, কর সংস্কারবিষয়ক বিলটির মূল লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকহারে কর অব্যাহতির সুযোগ পেতে যাচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত করদাতারাও তুলনামূলক কিছুটা বেশি করহ্রাসের সুবিধা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে টুইটারে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমেরিকাজুড়ে খেটে খাওয়া মানুষদের করের বোঝা কমিয়ে আনার লক্ষ্যের আরো কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি আমরা। ক্রিসমাসের আগেই বিলটিতে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছি।’

এদিকে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে স্বাস্থ্য বিল বাতিলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কর প্যাকেজকে আইনে রূপান্তর করা রিপাবলিকানদের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছিল। 

কর বিল পাস হওয়ার জন্য সিনেটের অনুমোদনই শেষ নয়। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিভসে পাসকৃত পৃথক কর সংস্কার আইনের সঙ্গে এ বিলের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে। সোমবার (আজ) থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আইনপ্রণেতাদের থেকে নতুন করে আপত্তি উঠতে পারে।

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আইনপ্রণেতাদের চাপে রাখেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সমাপ্ত হতে যাওয়া বছরটি শেষ হওয়ার আগেই তিনি একে আইনে রূপান্তর করতে ইচ্ছুক। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিভসের স্পিকার পল রায়ান বলেছেন, ‘১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম দেশের কর কোডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার অনুমোদন দিয়েছে হাউজ ও সিনেট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডেস্কে চূড়ান্ত বিলটি পৌঁছে দিতে আমরা এখন দ্রুত কাজ করব।’

বিলটি পাস হওয়ার পর সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, ‘আমেরিকাকে আরো প্রতিযোগিতা সক্ষমশীল করে তোলার সুযোগ পেলাম। আমাদের কাজ আর বিদেশে পাচার হয়ে যাবে না এবং মধ্যবিত্তরাও স্বস্তি পাবে।’

বিলটি ঠেকাতে ব্যর্থ সিনেটে থাকা ৪৮ ডেমোক্র্যাট সদস্য একে ধনী ও ক্ষমতাশালীদের আরো সুযোগ দেয়া বলে সমালোচনা করেছেন। শীর্ষ সিনেট ডেমোক্র্যাট চাক শ্যুমার বলেন, ‘এ রকম পশ্চাদগামী আইন আমি কখনো দেখিনি। এ আইন সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বিবর্জিত ও অর্থনীতির জন্য অনুপযুক্ত।

এদিকে শনিবার সকালে সিনেটে কর আইনটি পাস হওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এতে ব্যাপকহারে পরিবর্তন আনা হয়। প্রাদেশিক স্থানীয় পর্যায়ে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর মওকুফ সক্ষম রাখা হয়েছে। এর আগে সিনেট এ ধরনের কর অব্যাহতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। এছাড়া ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই অল্টারনেটিভ মিনিমাম ট্যাক্স (এএমটি) পুরোপুরি রদ হবে না। বরং ব্যক্তিক্ষেত্রে এএমটি সমন্বয় করা হবে এবং করপোরেট খাতের জন্য তা একই রকম থাকবে। সেসঙ্গে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ বছর পর্যন্ত নতুন মূলধন বিনিয়োগ রাইট অফের সুযোগ পাবে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ