ভারতসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এলাচের উৎপাদন কমায় এর বৈশ্বিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর প্রভাবে দেশেও কয়েক মাস ধরে অস্থির পণ্যটির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৮০ টাকা। সরবরাহ কমলে দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

 

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত চলতি বছরের আগস্ট থেকে এলাচের দাম বাড়তে শুরু করে। কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়লেও গত এক সপ্তাহে তা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সাতদিন আগে প্রতি কেজি এলাচ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল দাম বেড়ে একই পরিমাণ পণ্য ১ হাজার ১৪০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এলাচের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল জেবিসি ব্র্যান্ডের এলাচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১ হাজার ১৪০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। অন্যদিকে এলএমজি ব্র্যান্ডের একই পরিমাণ পণ্য ১ হাজার ১৩০ টাকায় লেনদেন হয়। তবে বাজারে ওয়াইএমটু ব্র্যান্ডের এলাচের সরবরাহ না থাকায় পণ্যটির দাম পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী অমল সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতের বাজারে এলাচের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। দাম আরো বেড়ে যাওয়ার গুজবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সকাল থেকে বিকালের মধ্যেই পাইকারিতে এলাচের দামের উত্থান-পতন মসলার বাজারকে অস্থির করে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে মসলার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এলাচ ও জিরার দাম বৃদ্ধিতে তা আবারো চাঙ্গা হতে পারে।

সূত্রমতে, কয়েক মাস ধরে ভারতে এলাচের দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুলাই পর্যন্ত মসলাটির দাম বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ভারতের এলাচ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফলে চলতি উৎপাদন মৌসুমে পণ্যটির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ভারতের কৃষি বিভাগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এলাচ বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৫৯৮ রুপিতে। বর্তমানে তা ৯২৫ রুপি ছাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে এলাচের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় রফতানিতেও বেশি দাম হাঁকছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এলাচ ছাড়াও গত কয়েক দিনে পাইকারিতে জিরার দামও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে সিরিয়ান ভালো মানের জিরার দাম কেজিপ্রতি ১২ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ৩২০ টাকায়। অন্যদিকে একই পরিমাণ ভারতীয় জিরার দাম ৮-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য গরম মসলার দাম স্থিতিশীল আছে।

খাতুনগঞ্জে গতকাল কেজিপ্রতি লবঙ্গ ৮৮০ টাকায়, গোলমরিচ ৭৭০, দারচিনি ১৯৫, জয়ত্রী ১ হাজার ২৮০, জয়ফল ৪৫০, মিষ্টি জিরা ১১০, ধনিয়া মানভেদে ৫৩ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতি কেজি ভারতীয় শুকনা মরিচ ১৫০ টাকায়, দেশীয় শুকনা মরিচ ১৪০-১৫০, ভারতীয় আস্ত হলুদ ১১০ ও দেশী হলুদ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার