২০১৬-১৭ মৌসুমে ভারতে তুলা উৎপাদন বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অনুকূল আবহাওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা না যাওয়ায় পণ্যটির উৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

 

ভারতের কটন অ্যাডভাইজরি বোর্ড (সিএবি) সম্প্রতি এক সভায় ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমে ৩ কোটি ৫১ লাখ বেল (প্রতি বেল ১৭০ কেজি) তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। এর পরিমাণ ২০১৫-১৬ মৌসুমে ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ বেল।

চলতি মৌসুমে ভারতে সার্বিক তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হলেও বিটি তুলা চাষে জমির পরিমাণ কমবে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে দেশটির ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৮৬ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পণ্যটি আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য জাতের তুলার আবাদ থাকবে বাড়তির দিকে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ভারতের ১৮ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের তুলা আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে এর পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর।

টেক্সটাইল কমিশনার কবিতা গুপ্ত জানান, আবহাওয়ার রীতিসহ নানা কারণে আগামী বছর তুলা উৎপাদনে পরিবর্তনে আসতে পারে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে বাম্পার তুলা উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং এখনো কোনো পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা না দেয়ায় পণ্যটির উৎপাদন বাড়বে। গত বছর পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যে সাদা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। অন্যদিকে গুজরাটে পিংক বলওয়ার্মের সংক্রমণের কারণে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হয়। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যার কারণে একরপ্রতি জমিতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়বে।

কটন অ্যাডভাইজরি বোর্ডের তথ্য মোতাবেক, গত মৌসুমে দেশটির হেক্টরপ্রতি জমিতে ৪৩৮ দশমিক ৭৯ কেজি তুলা উৎপাদন হয়েছিল। এবার একই পরিমাণ জমিতে ৫৬৮ দশমিক ২৯ কেজি  তুলা উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার একরপ্রতি তুলা উৎপাদন ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে পাঞ্জাবের হেক্টরপ্রতি জমিতে গড়ে ৫৯৭ দশমিক ৬৬ কেজি তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে গত মৌসুমে রাজ্যটির একই পরিমাণ জমিতে ৩৭৬ দশমিক ১১ কেজি তুলার ফলন পাওয়া গিয়েছিল।

ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশের কৃষকরা তুলার পরিবর্তে অন্যান্য শস্য আবাদে ঝুঁকছেন। এ কারণে পণ্যটি আবাদে জমির পরিমাণ কমে এসেছে। চলতি মৌসুমে এ দুই রাজ্যে ১২ শতাংশ কমে ১ কোটি ৫ লাখ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হতে পারে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশের ১ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে পণ্যটির আবাদ হয়েছিল।

ভারতে উৎপাদিত তুলার অন্যতম ক্রেতা দেশের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান। গত বছর পাকিস্তানে তুলা উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এ কারণে দেশটি ভারত থেকে রফতানিকৃত তুলার ৪০ শতাংশই ক্রয় করে। তবে চলতি বছর পাকিস্তানে ভারতীয় তুলার চাহিদা কম থাকবে। কেননা ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে তুলা আমদানি কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। চলতি বছর ভারত থেকে ৫০ লাখ বেল তুলা রফতানি হতে পারে। যেখানে ২০১৫-১৬ মৌসুমে দেশটি থেকে ৬৯ লাখ বেল তুলা রফতানি হয়েছিল বলে গুপ্ত জানান।

অ্যাডভাইজরি কমিটি চলতি মৌসুমে ভারতের তুলা মিলগুলোয় ২ কোটি ৭৫ লাখ বেল তুলা ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে পণ্যটির মজুদ ৪৮ লাখ বেলে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর পরিমাণ ২০১৫-১৬ মৌসুমে ছিল ৪৩ লাখ বেল।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার