বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৪তম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) সভা শুরু হয়েছে।বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, প্রযুক্তি হস্তান্তর, চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ চীনা অর্থায়নে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

 

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক চলছে। বৈঠকে চীনের সহকারী বাণিজ্যমন্ত্রী গাও ইয়ান তার দেশের পক্ষে চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন।

ইআরডি সূত্র জানিয়েছে, এবারের ১৪তম জেইসি বৈঠকে সাতটি বিশেষ বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ-চায়না মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা চালুর বিষয় ছাড়াও চীনা সহায়তায় নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চীনা অর্থায়নে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ দরপত্র প্রক্রিয়া এবং বায়ার্স ক্রেডিটসহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

এরই মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগসহ কর্ণফুলী নদীর নীচে টানেল নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামোসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। দেশটির বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে দেশেটির বিনিয়োগকারীদের জন্য দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এবারের বৈঠকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ইআরডির কর্মকর্তারা।

চীনা ঠিকাদার নিয়োগে সীমিত দরপত্র প্রক্রিয়া গত এক বছরেও চূড়ান্ত করতে না পারায় নতুন প্রকল্প নেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য গত ১০ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ অনুমোদন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চীনের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে। তবে সীমিত দরপত্রের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর এ ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। এর মাধ্যমে চীনা অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে প্রায় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চিকিত্সা সরঞ্জাম সংগ্রহের লক্ষ্যে দুটি বিনিময় পত্র সই হয়েছে। অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার অনুদানের একটি চুক্তি সই হয়েছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের লক্ষ্যে পৃথকভাবে দু’টি বিনিময় পত্র সই হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৯ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের উদ্ধার যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিনিময় পত্রও সই হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পে বিনিময় পত্র সই হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াও বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে বলে সূত্র জানায়।

এর আগে ২০১৪ সালের ৪ জুন চীনের কুনমিং শহরে বাংলাদেশ-চীন ১৩তম জেইসি সভা হয়েছিল।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার