চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের পণ্য বিক্রি এক বছর আগের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বর্ধিত বিক্রির সিংহভাগই ছিল রেফ্রিজারেটরের অবদান। প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

 

গতকাল সিঙ্গার বাংলাদেশ তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

করেছে। প্রতিবেদনটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ ৭৫৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৮০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সেবা থেকে কোম্পানিটির ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ফলে বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানির টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৭৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৯৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

সিঙ্গারের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, নয় মাসে পণ্য বিক্রির বিপরীতে কোম্পানির উত্পাদন খরচ হয়েছে ৫৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এতে কোম্পানির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে মোট মুনাফা ছিল ১৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে মোট (গ্রস) মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে গ্রস মার্জিন ২৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

প্রথম তিন প্রান্তিকে বিক্রির বিপরীতে কোম্পানির উত্পাদন ব্যয়ও কমেছে। ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে বিক্রির বিপরীতে কোম্পানির উত্পাদন ব্যয় ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ, যা চলতি বছরের একই সময়ে ৭১ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময় পরিচালন, সুদ ও কর বাবদ খরচসহ অন্যান্য ব্যয় বাদ দেয়ার পর কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৯ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ২৪ পয়সা।

তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল পর্যালোচনাকালে সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ চেয়ারম্যান গ্যাভিন ওয়াকার জানান, ঈদুল আজহায় কোম্পানির বিক্রি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, আকর্ষণীয় প্রচারণা, নতুন বিপণন উদ্যোগ, সর্বোপরি নতুন পণ্যের সমারোহের কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নতুন রেফ্রিজারেটর কারখানায় (ইন্টারন্যাশনাল

অ্যাপ্লায়েন্সেস লিমিটেড) উত্পাদন দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া প্রথম তিন প্রান্তিকে সিঙ্গারের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, বিকাশ, গ্রামীণ এয়ারটাইম রিলোড ও ইউটিলিটি বিল প্রদানের মতো আর্থিক সেবা কার্যক্রম থেকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২২ শতাংশ বেশি আয় করেছে। এ সময় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ সিঙ্গারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়েছেন।

এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সিঙ্গারের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় কোম্পানির মোট মুনাফা হয়েছে ১০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বেশি। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফায় তেমন উন্নতি হয়নি। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার