জেদের মজবুত বিকাশ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশকে অবশ্যই সড়ক নিরাপত্তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার।

তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ দূত জন টডকে সাথে নিয়ে দুই দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ করেছেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সবার জন্য সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্কেফার বলেন, ‘বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। গত দুই দশকে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ছিল দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের গড়ের তুলনায় তিন গুণ বেশি।’

তিনি বলেন, সড়কে নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে, যার সাথে ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা বা এইচআইভির তুলনা চলে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং এসব মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশের বেশি হয় দক্ষিণ এশিয়ায়।

‘বিপুল মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও দুর্বল সড়ক নিরাপত্তা একটি দেশের বিকাশ ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে,’ উল্লেখ করে স্কেফার বলেন, ‘কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা বহুলাংশে প্রতিরোধযোগ্য এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই। সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ একসাথে প্রস্তুত রয়েছে।’

বিশ্বের অনেক দেশ নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যান, নিরাপদ আচরণ, কঠোর তদারকি ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রবণতা উলটে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আগামী দশকের মধ্যে সড়কে নিহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জন টড বলেন, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের মৃত্যুর চতুর্থ সর্বোচ্চ কারণ সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। চূড়ান্তভাবে মারা যাওয়া ও আহত হওয়ার এ আর্থিক ও মানবিক ক্ষতিটুকু অপরিমেয়।

‘তারপরও সরকার যে অঙ্গীকার দেখিয়েছে তাতে আমরা অসাধারণ সুযোগ দেখি এবং উন্নত সড়ক নিরাপত্তার জন্য একসাথে কাজ করার অপেক্ষায় আছি আমরা,’ বলেন তিনি।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ