দেশে কর্মসংস্থান কমে গেছে, তাই কর্মসংস্থান বাড়াতে এবার বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছে সরকার। এই জন্য সংস্থাটির কাছ থেকে ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয়া হবে। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই ঋণের আকার ছয় হাজার ১৫০ কোটি টাকা ‘ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিটের (ডিপিসি)’ আওতায় তিন বছরে এই ঋণ প্রদান করবে বিশ্বব্যাংক। প্রতি বছর বাজেটসহায়তা হিসেবে সংস্থাটি ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করবে। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে এই ঋণ দেয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে। এখন সংস্থাটির সাথে চুক্তির দিনক্ষণ ঠিক করা হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

 

বিগত ১০ বছরে দেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। সম্প্রতি শ্রমশক্তি জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে কর্মংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।

ইআরডি ও অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৭৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে ২০টিরও বেশি উদ্যোগ নেয়া হবে। আগামী তিন অর্থবছরকে সামনে রেখে এ মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রতি অর্থবছরের জন্য থাকবে পৃথক পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করা হবে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে। পরিকল্পনার আওতায় বহুমুখী কর্মসৃজন, মানসম্পন্ন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিক হারে কর্মে প্রবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। দ্রুত বহুমুখী কর্মসৃজনে তৈরী পোশাক শিল্পের বাইরে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ যৌক্তিককরণ ও শুল্ক সুবিধার আধুনিকায়ন করা হবে। নতুন কাস্টমস আইন ও বিধি প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় একক বাতায়ন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় ওয়ানস্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তা ছাড়া আর্থিক নিরাপদ লেনদেন বিষয়ক আইন প্রণয়ন, স্থানান্তরযোগ্যা জামানতের রেজিস্ট্রি-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি, দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে মধ্যস্থতা বিষয়ক বিধি জারি, সালিশ আইন ও অর্থঋণ আদালতের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

মানসম্মত চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে পেনশনের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। সমন্বিত পেনশন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন ও সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে পোশাক শিল্পে কর্মকালীন ঝুঁকিবীমা প্রবর্তনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং তার ফলাফলের ভিত্তিতে এ ধরনের বীমা প্রবর্তনের আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে। তা ছাড়া শ্রম আইন প্রয়োগে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারখানা পরিদর্শন প্রতিবেদনের বাস্তবায়ন অনলাইনে প্রকাশ, শ্রম আইনের আওতায় চুক্তি ও কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মে প্রবেশ নিশ্চিত করতে অভিবাসীদের ওয়েজ আর্নার্স অয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন, নারী কর্মসংস্থানের অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন সমন্বয়ের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন ও বেসরকারি খাতের অর্থায়নে শিল্প দক্ষতা কাউন্সিলগুলো কার্যকর করা হবে।

ইআরডি সূত্র জানায়, দক্ষতা উন্নয়নে এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে দেশের অভ্যন্তরে কর্মসৃজনে গতি আসবে। এর ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণের হারও ত্বরান্বিত হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী তিন অর্থবছরে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার করে মোট ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চাওয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাংক থেকে। এর ফলে সরকারের দারিদ্র্য দূরীকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হওয়ার পাশাপাশি কমবে বেকারত্বের হার। তা ছাড়া মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রবণতা কমার যে প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছিল, তা রোধ করা সম্ভব হবে। পোশাক খাতের বাইরে বিশাল কর্মসৃজনের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এসব কিছুকে সামনে রেখেই দাতাসংস্থা বিশ^ব্যাংকের সহায়তা কামনা করেছে সরকার।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মূলত বাজেটে সহায়তা হিসেবে এই অর্থ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সার-সংক্ষেপটি দেখেছেন এবং অর্থ নেয়ার জন্য সম্মতি প্রদান করেছেন। ইআরডির পক্ষ থেকে তা বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসকে জানিয়েও দেয়া হয়েছে। এখন ওয়াশিংটন থেকে বার্তা এলেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর থেকে বিশ্বব্যাংক থেকে এই অর্থ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ঋণের সুদের হার হতে পারে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এখন হবে ৪০ বছরে পরিশোধযোগ্য। এর মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে ১০ বছর।

 

বাংলাবিজনিউজ/আরাফ