১৯৯৯ সালের ২৭ নভেম্বর তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে যাত্রা করে ব্যাংক এশিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে ব্যাংকটি। কিন্তু চলতি বছর এ ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। অপ্রত্যাশিতভাবে কমে গেছে ব্যাংকটির নিট মুনাফা।

 

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংক এশিয়ার নিট মুনাফা ছিল ১৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে তা মাত্র ৬৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এ হিসাবে নয় মাসে ব্যাংকটির নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী গণমাধ্যমকে জানান, বন্ডে বিনিয়োগ থেকে আয় ও ট্রেজারি রেট কমে যাওয়া এবং প্রভিশন সংরক্ষণ— মূলত এ তিন কারণে ব্যাংকটির নিট মুনাফা কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

মূলত বিনিয়োগ থেকে বড় অংকের আয় কমে যাওয়া ব্যাংকটির নিট আয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে বেশি। ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংক এশিয়ার আয় ছিল ৩৮১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ২৬১ কোটি ৮ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

বিনিয়োগ থেকে আয় কমার পাশাপাশি বেড়ে গেছে ব্যাংক এশিয়ার খেলাপি ঋণের পরিমাণও। আর খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়েও অপ্রত্যাশিত হারে কমেছে ব্যাংকটির নিট মুনাফা।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক এশিয়ার খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৩৫৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেড়ে ৯০০ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিতরণকৃত ঋণের ৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে একই সময়ে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের স্থিতিও বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে ব্যাংক এশিয়ার ঋণের স্থিতি ছিল ১২ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে ঋণের স্থিতি ২ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বেড়ে ১৪ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। 

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকটির প্রভিশন সংরক্ষণে টাকার পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটি ১৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রভিশন সংরক্ষণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রভিশন সংরক্ষণে বড় অংকের টাকা রাখতে গিয়েই মূলত নিট মুনাফায় টান পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাংকটির শেয়ারধারণকারীরা। ২০১৫ সালের নয় মাসে ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা, যা চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মাত্র ৭৮ পয়সায় নেমে এসেছে।

গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক এশিয়া বছরে গড়ে ১৭৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ১৩৩ কোটি ৫ লাখ, ২০১৪ সালে ২০১ কোটি ২৫ লাখ ও ২০১৫ সালে ২৫৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা ছিল ব্যাংক এশিয়ার। এর মধ্যে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংক এশিয়ার নিট মুনাফা ছিল ১৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ৬৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংক এশিয়ার নিট মুনাফা ছিল ৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অথচ চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটি মুনাফা করে মাত্র ৪১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

তবে ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসের তুলনায় চলতি বছরে ব্যাংকটির ঋণের সুদ আয় বেড়েছে। গত বছরের নয় মাসে সুদ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল ২০০ কোটি টাকা, যা চলতি বছর ২৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির এমডি বলেন, ঋণের সুদ থেকে ব্যাংকের আয় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বড় অংকের মুনাফা হওয়ার কারণে ২০১৫ সালে ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছিল। ট্রেজারি রেট কমে যাওয়ায় ব্যাংকের মুনাফায় এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া ঋণের বিপরীতে বড় অংকের প্রভিশন রাখতে হচ্ছে, এটিও নিট মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমরা দেশে ভালো অবস্থানে রয়েছি। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক এশিয়া ভালো করছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের দুর্বলতা আছে। মাত্র তিন মাস আগে আমি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। আশা করছি, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠে ভবিষ্যতে ব্যাংকটি আরো মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়াবে। সূত্র: বণিক বার্তা

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার