নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত শতকোটি টাকার তহবিল অকেজো পড়ে আছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) দুই হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পে সহায়তার জন্য ২০১৪ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়। তবে যোগ্য উদ্যোক্তার অভাবে এখান থেকে এখন পর্যন্ত এক টাকাও বিতরণ করা যায়নি।

 

ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় এ সংগঠন সারাদেশ থেকে দুই হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এ প্রকল্প হাতে নেয় ২০১৩ সালের মে মাসে। নতুন উদ্যোক্তারা সহজে যেন ঋণ পান, সে লক্ষ্যে ওই বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে সংগঠনটি। চুক্তি অনুযায়ী, ৪০ হাজার নতুন উদ্যোক্তার মধ্য থেকে সম্ভাবনাময়ী ও বাস্তবায়নযোগ্য দুই হাজার উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ৬৪ জেলার চেম্বার অব কমার্স, প্রেস ক্লাব, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা প্রশাসক অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর কথা ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুক্তির তিন বছর পরও ঢাকার বাইরে কোনো প্রচারণা চালায়নি ডিসিসিআই। এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর প্রথম বছর তিন হাজার ২৯ জনের একটি তালিকা করে সংগঠনটি। এদের মধ্য থেকে ৮৬২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংগঠনটির বিবেচনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে মাত্র নয়টি প্রকল্প যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। শুধু ওই প্রকল্পগুলোতে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করে তা পাঠানো হয় বিভিন্ন ব্যাংকে। এসব উদ্যোক্তাকে যথাসময়ে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক। তবে ঋণের পরিমাণ খুব কম হওয়ায় তা আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন থেকে না নিয়ে, ব্যাংকগুলো সরাসরি অর্থায়ন করেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শতকোটি টাকার পুরোটাই অকেজো পড়ে আছে।

এ বিষয়ে ডিসিসিআইর নতুন উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পের পরামর্শক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি শফিকুর রহমান বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। এখানে ভালো প্রকল্প না আসায় তা ব্যাংক ঋণের জন্য পাঠানো যায়নি। তবে এ প্রকল্পের আওতায় অনেককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য গঠিত শতকোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দেখভাল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ। এ বিভাগ থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. নির্মল চন্দ্র ভক্ত বলেন, যোগ্য নতুন উদ্যোক্তার অভাবে শতকোটি টাকার তহবিলটি পড়ে আছে। তবে ব্যাংকগুলো নিজস্ব উদ্যোগে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করছে। এ ছাড়া জ্ঞান ও সৃজনশীল লেখনী প্রকাশ ও বিপণন এবং আইটি খাতের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিদ্যমান তহবিল থেকে অনেকেই ঋণ নিচ্ছেন।

শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের শতকোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করতে পারে। এ সুদহারে ঋণ দিতে গিয়ে কোনো ব্যাংকের সুদ ক্ষতি হলে ওই ব্যাংকের আরও ১ শতাংশ সিএসআর ব্যয় হিসেবে দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তা বলতে আগে কখনও ব্যবসায়িক কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন না বা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে কখনও ঋণ নেননি, শুধু সে ধরনের উদ্যোক্তাকে বোঝানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি শুরুর মাস ২০১৩ সালের জুনে ব্যাংকগুলো গড়ে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছিল। ঋণ বিতরণ করেছিল গড়ে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ সুদে। ওই সময়ে আমানতের গড় সুদহারের তুলনায় এ প্রকল্প থেকে নেওয়া পুনঃঅর্থায়নের সুদহার

অনেক কম থাকায় অর্থায়ন নিতে ব্যাংকগুলোর আগ্রহের কমতি ছিল না। তবে যোগ্য

উদ্যোক্তার অভাবে তহবিলটি একেবারে অকেজো পড়ে আছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর আমানতের গড় সুদহার নেমে এসেছে সাড়ে ৫ শতাংশের নিচে। এখন গড়ে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে এখন আর আশানুরূপ সাড়া পাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই বলে তারা উল্লেখ করেন। সূত্র: সমকাল

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার