দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে এক্ষেত্রে তা হতে পারে ১০ থেকে ১৫ বছর

 

গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমন ইঙ্গিত দেন

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৫() ধারা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ব্যাংকে সর্বোচ্চ ২০ জন পরিচালক থাকার কথা একই আইনের ১৫ কক ধারায় একজন পরিচালকের মেয়াদ তিন বছর করা হয়েছে পর পর দুই মেয়াদে ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করার পর তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই পরিচালককে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে তবে দুই মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছর পর পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই

কোম্পানি আইনের ওই বিধানসহ বেশকিছু বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা প্রধান নির্বাহীরা এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট দুটি সংগঠনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিএবি এবিবি বেশকিছু দাবি উত্থাপন করেছে মধ্যে ব্যাংকের পরিচালকরা মেয়াদের বিষয়ে তাদের আপত্তি জানিয়েছেন এক্ষেত্রে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের মেয়াদ বাড়তে পারে বর্তমানে তারা পর পর দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারেন না এটা ১০-১৫ বছর করা হতে পারে তবে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে

এছাড়া পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেক্ষেত্রেও তারা আপত্তি জানান ব্যাংক মালিকদের বক্তব্য হচ্ছে, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা নির্বাচন করেই পদে আসেন সেক্ষেত্রে পুনরায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা একটি অতিরিক্ত চাপ এই বাধ্যবাধকতা থেকে তারা পরিত্রাণ চান

বৈঠকে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের অর্থ দেয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছেন কারণ শ্রমিক বলতে যা বোঝায় ব্যাংক কর্মচারীরা সেই ক্যাটাগরিতে পড়েন না বলে তারা মনে করেন

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার