বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কিন্তু গত কয়েক মাসে উদ্বেগজনক হারে রেমিট্যান্স কমেছে। গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছে গত মাসে। এতে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অর্থনীতিবিদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মোটা দাগে তিন কারণে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমেছে। কারণগুলো হচ্ছে- বিভিন্ন দেশে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার মান কমে যাওয়া, উৎপাদক দেশগুলোতে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক মন্দা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। তবে বাইরের বিভিন্ন দেশের কারণে চাপে পড়তে হচ্ছে আমাদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে (জুলাই) প্রবাসীরা মাত্র ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি চার বছর বা ৪৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে প্রবাসীরা ১৩৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ডলার। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ১২৩ কোটি ডলার এবং ২০১২ সালের জুলাইয়ে ১২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

আর সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয় আসার পরিমাণ গত অর্থবছর কমেছে ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রবাসীরা গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন। তার আগের বছর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসেছিল ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ থেকে প্রবাসীরা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯০৭ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসব দেশ থেকে তারা ৫২ কোটি ডলার কম পাঠিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই মাস ছিল ঈদের পরের মাস। ঈদ উপলক্ষে তারা আগের মাসে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। ফলে গেল মাসে কিছুটা কম পাঠিয়েছেন। এটা একটি কারণ হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এক ধরনের মন্দাভাব চলছে। সেসব দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। এর প্রভাবও পড়েছে রেমিট্যান্সে।

এসব ক্ষেত্রে সরাসরি আমাদের কিছু করার না থাকলেও কূটনৈতিকভাবে সরকারের ভুমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, সম্প্রতি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। ওই সব দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করতে আগের চেয়ে বেশি স্থানীয় মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে ওসব দেশের মুদ্রার মান কমে গেছে। আবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেলের দামও কমে গেছে। এসব বিষয় রেমিট্যান্সেও প্রভাব ফেলছে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার