রিজার্ভ চুরি ঠেকাতে সুইফট সিস্টেম নতুন করে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলনকক্ষে মুদ্রানীতি ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

 

গভর্নর বলেন, ‘সুইফট কোডগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পুরোনো সব নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোই পরিবর্তন করা হচ্ছে। এক কথায় আধুনিকায়ন করা হচ্ছে সব কিছুর।’

বর্তমানে লেনদেনের ক্ষেত্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমে এসএমএস, পরে ই-মেইল এবং শেষে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে লেনদেন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘সব কিছু আধুনিকায়নের আগ পর্যন্ত এ পদ্ধতিতেই লেনদেন চালু থাকবে।’

দেশে সম্প্রতি জঙ্গি হামলার কারণে মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে কোন প্রভাব পড়বে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান বলেন, ‘জঙ্গি হামলার এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি বিদ্যামান তাতে নতুন মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আমরা মনে করছি এবং এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

জঙ্গি অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন বিষয় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এ নিয়ে ইতিমধ্যে সব ব্যাংকের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে গভর্নর বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ অনুৎপাদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার না হয়ে যাতে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের প্রকৃত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় সেদিকে নজরদারি বাড়ান হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অর্থায়ন যাতে সাশ্রয়ী সুদে হয় এ ব্যপারেও নজরদারি করা হবে। পাশপাশি ব্যাংকিং খাতের তারল্য প্রয়োজনে পূনঃঅর্থায়নে অর্থাৎ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রকল্প খাতে অব্যহত রাখা হবে।’

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ঋণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় সাশ্রয়ী সুদে অর্থ সংগ্রহের সুযোগও সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের জন্য আগের মতো উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশন চ্যানেলগুলো অধিকতর কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আর্থিক বাজারে বিদ্যমান সমস্যা বিশেষ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধির মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১৬.৫ শতাংশ। যা আগের (২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষার্ধে জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতির তুলনায় ১.৭ শতাংশ বেশি। আর সরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ১৫.৯ শতাংশে। 

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার