আগামী আগস্ট মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বহু প্রতীক্ষিত ‘সীমান্ত ব্যাংক’। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীর বিজিবি সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকটির উদ্বোধন করবেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিজিবি সদস্যদের কল্যাণে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হবে। সীমান্ত ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সীমান্ত ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির স্লোগান ‘সীমাহীন আস্থা’। এর মাধ্যমে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হলো ৫৭টি।

২০১৫ সালের ১৭ জুন সীমান্ত ব্যাংককে সম্মতিপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৩ জুন ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদের কাছে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরে। ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বিজিবির মহাপরিচালকের কাছে ব্যাংকের লেটার অব ইনট্যান্ট হস্তান্তর করেন তৎকালীন গভর্নর। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যাংকটির লোগো চূড়ান্ত করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ১০০ কোটি টাকা। ধানমন্ডির জিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের কাছে নতুন ভবনে হবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।

ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবে। তাদের জন্য কোটাও থাকবে। একইভাবে ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে এ ব্যাংক বিজিবি সদস্যদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ট্রাস্ট ব্যাংককে অনুসরণ করে সীমান্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত ব্যাংকের লভ্যাংশের পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের নানামুখী কল্যাণে। এ ব্যাংক থেকে বিজিবি সদস্য কিংবা তাদের পরিবারকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশি ও বৈদেশিক চিকিৎসা সহায়তা।

এ ছাড়া বিবাহঋণ, কৃষিঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ঋণ কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে। এ ব্যাংক শুধু বাণিজ্যিক লভাংশের জন্য পরিচালিত না হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ কল্যাণমুখী একটি আধুনিক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার