বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বহু দিনের প্রতীক্ষিত সীমান্ত ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা হলো ৫৭টি।

 

‘সীমাহীন আস্থা’ স্লোগান নিয়ে আগামী মাসেই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে আসতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে ব্যাংকটি।

২০১৫ সালের ১৭ জুন সীমান্ত ব্যাংককে সম্মতিপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ জুন ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদের কাছে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরে। প্রথম বছরে চারটি শাখাসহ ৫ বছরে ৪৪টি শাখা খুলতে চায় ব্যাংকটি। এরইমধ্যে রাজধানীর সীমান্ত স্কয়ারে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

ব্যাংকটির পরিচালক আটজন। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। এরইমধ্যে জুন মাস থেকে তিনি দায়িত্ব পালনও শুরু করেছেন। ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে ব্যাংকটি।

এরপর ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বিজিবির মহাপরিচালকের কাছে ব্যাংকের লেটার অব ইনট্যান্ট হস্তান্তর করেন তৎকালীন গভর্নর। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যাংকটির লোগো চূড়ান্ত করা হয়।

সীমান্ত ব্যাংক সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, “রাইফেল কল্যাণ সংস্থার মালিকানাধীন ‘সীমান্ত ব্যাংক’ নামে নতুন একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে ব্যাংকটির নাম অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।”

গত বছরের শেষ দিকে ব্যাংকটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুদিন সময় চায় কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, নতুন এ ব্যাংক স্থাপনের ব্যাপারে যাবতীয় কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে বিজিবি। এতে অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ১০০ কোটি টাকা। ধানমন্ডির জিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের কাছে নতুন ভবনে হবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।

ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবে। তাদের জন্য কোটাও থাকবে। একইভাবে ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। ট্রাস্ট ব্যাংককে অনুসরণ করে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত ব্যাংকের লভ্যাংশের পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের নানামুখী কল্যাণে। এ ব্যাংক থেকে বিজিবি সদস্য কিংবা তাদের পরিবারকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশি ও বৈদেশিক চিকিৎসা সহায়তা।

এ ছাড়া বিবাহঋণ, কৃষিঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ঋণ কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে। এ ব্যাংক শুধু বাণিজ্যিক লভাংশের জন্য পরিচালিত না হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ কল্যাণমুখী একটি আধুনিক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে।

পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে এ ব্যাংকটি বিজিবি সদস্যদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার