বাংলাদেশের লোকজন ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। সুশাসনের অভাবেই অর্থপাচার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান।

 

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অর্থপাচার : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ডায়ালগে আকবর আলী খান এসব কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলায় হয়, ২০১৩ সালে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৯৬৭ কোটি ডলার। পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থের ২৫ শতাংশ করের আওতায় আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুন ও স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুন করা যেত।

সিপিডির এ ডায়ালগ অনুষ্ঠানে আকবর আলী খান বলেন, অর্থপাচার নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে,  কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। ফি বছর পাচার হওয়া অর্থের অংক বাড়ছে।

তিনি বলেন, অর্থপাচারের দুইটি কারণ থাকতে পারে। একটি হলো উন্নত দেশের দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যটি হলো আইনের শাসনের অভাব। আমার মনে হয় কর ফাঁকি দিতে এই টাকা পাচার হচ্ছে না। বাংলাদেশের লোকজন ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পায়, করের হার আরও কমানো হলেও পাচার বন্ধ হবে না। বিরক্ত হয়ে দেশ থেকে অনেক মানুষ চলে যেতে চায়।

অর্থ পাচার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে পৃথক একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সংস্থাটি থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। প্রস্তাবিত এ সংস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

দুদকের কাজ দুর্নীতি রোধ করা, অপ্রিয় হলেও সত্য এই সংস্থার তৎপরতায় অর্থপাচার রোধ করা সম্ভব নয় এমন মন্তব্য করে আকবর আলী খান বলেন, অর্থপাচার রোধে আমাদের আইনী কাঠামোকে আরও মজবুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডি সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম ও এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমদ প্রমুখ।

 

বাংলাবিজনিউজ/আনোয়ার